Welcome To Anondo Gaan

CONTENTS

Sunday, February 23, 2014

Sadharon Meye - Lyrics & Translation




আমি অন্তঃপুরের মেয়ে, 

চিনবে না আমাকে। 
তোমার শেষ গল্পের বইটি পড়েছি, শরৎবাবু , 
'বাসি ফুলের মালা'। 
তোমার নায়িকা এলোকেশীর মরন দশা ধরেছিল 
পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে। 
পঁচিশ বছর বয়সের সংগে ছিল তার রেশারেশি--- 
দেখলেম তুমি মহদাশয় বটে, 
জিতিয়ে দিলে তাকে।। 



নিজের কথা বলি। 
বয়স আমার অল্প। 
একজনের মন ছুঁয়েছিল 
আমার এই কাঁচা বয়সের মায়া। 
তাই জেনে পুলক লাগলো আমার দেহে---- 
ভুলে গিয়েছিলেম অত্যন্ত সাধারণ মেয়ে আমি, 
আমার মত এমন আছে হাজার হাজার মেয়ে, 
অল্প বয়সের মন্ত্র তাদের যৌবনে।। 



তোমাকে দোহাই দেই, 
একটি সাধারন মেয়ের গল্প লেখো তুমি। 
বড়ো দুঃখ তার। 
তারও স্বভাবের গভীরে 
অসাধারণ যদি কিছু তলিয়ে থাকে কোথাও 
কেমন করে প্রমাণ করবে সে-- 
এমন কজন মেলে যারা তা ধরতে পারে! 
কাঁচা বয়সের জাদু লাগে ওদের চোখে, 
মন যায় না সত্যের খোঁজে-- 
আমরা বিকিয়ে যাই মরীচিকার দামে।। 



কথাটা কেন উঠল তা বলি। 
মনে করো, তার নাম নরেশ। 
সে বলেছিল, কেউ তার চোখে পড়েনি আমার মতো। 
এতবড়ো কথাটা বিশ্বাস করব যে সাহস হয় না, 
না করব যে এমন জোর কই।। 



একদিন সে গেল বিলেতে। 
চিঠিপত্র পাই কখনো বা । 
মনে মনে ভাবি, রাম রাম, এত মেয়েও আছে সে দেশে, 
এত তাদের ঠেলাঠেলি ভিড়! 
আর, তারা কি সবাই অসামান্য-- 
এত বুদ্ধি এত উজ্জ্বলতা! 
আর, তারা সবাই কি আবিষ্কার করেছে এক নরেশ সেনকে 
স্বদেশে যার পরিচয় চাপা ছিল দশের মধ্যে।। 



গেল মেল্‌’এর চিঠিতে লিখেছে, 
লিজির সঙ্গে গিয়েছিল সমুদ্রে নাইতে 
(বাংগালি কবির কবিতার ক লাইন দিয়ছে তুলে, 
সেই যেখানে ঊর্বশী উঠছে সমুদ্র থেকে) 
তার পরে বালির 'পরে বসল পাশাপাশি---- 
সামনে দুলছে নীল সমুদ্রের ঢেউ, 
আকাশে ছড়ানো নির্মল সুর্যালোক। 
লিজি তাকে খুব আস্তে আস্তে বললে, 
‘এই সেদিন তুমি এসেছ, দুদিন পরে যাবে চ'লে--- 
ঝিনুকের দুটি খোলা, 
মাঝখানটুকু ভরা থাক্‌ 
একটি নিরেট অশ্রুবিন্দু দিয়ে, 
দুর্লভ, মূল্যহীন।‘ 
কথা বলবার কী অসামান্য ভঙ্গী! 
সেই সঙ্গে নরেশ লিখেছে, 
‘কথাগুলি যদি বানানো হয় দোষ কী, 
কিন্তু চমৎকার-- 
হীরে-বসানো সোনার ফুল কি সত্য, তবুও কি সত্য নয়?’ 



বুঝিতেই পারছ 
একটা তুলনার সংকেত ওর চিঠিতে একটা অদৃশ্য কাঁটার মতো 
আমার বুকের কাছে বিধিয়ে দিয়ে জানায়-- 
আমি অত্যন্ত সাধারন মেয়ে। 
মূল্যবানকে পুরো মূল্য চুকিয়ে দেই 
এমন ধন নেই আমার হাতে। 
ওগো, না হয় তাই হল, 
না হয় ঋনীই রইলেম চিরজীবন।। 



পায়ে পড়ি তোমার, একটা গল্প লেখো তুমি শরৎবাবু, 
নিতান্ত সাধারন মেয়ের গল্প-- 
যে দূর্ভাগিনীকে দূরের থেকে পাল্লা দিতে হয় 
অন্তত পাঁচ-সাতজন অসামান্যার সঙ্গে-- 
অর্থাৎ সপ্তরথিনীর মার। 
বুঝে নিয়েছি আমার কপাল ভেঙ্গেছে, 
হার হয়েছে আমার। 
কিন্তু, তুমি যার কথা লিখবে 
তাকে জিতিয়ে দিয়ো আমার হয়ে-- 
পড়তে পড়তে বুক যেন ওঠে ফুলে। 
ফুলচন্দন পড়ুক তোমার কলমের মুখে।। 



তাকে নাম দিয়ো মালতী 
ওই নামটা আমার । 
ধরা পড়বার ভয় নেই। 
এমন অনেক মালতী আছে বাংলাদেশে, 
তারা সবাই সামান্য মেয়ে, 
তারা ফরাসি জর্মান জানে না , 
কাঁদতে জানে।। 



কী করে জিতিয়ে দেবে? 
উচ্চ তোমার মন, তোমার লেখনী মহীয়সী। 
তুমি হয়তো ওকে নিয়ে যাবে ত্যাগের পথে 
দুঃখের চরমে, শকুন্তলার মত। 
দয়া করো আমাকে। 
নেমে এস আমার সমতলে। 
বিছানায় শুয়ে শুয়ে রাত্রির অন্ধকারে 
দেবতার কাছে যে অসম্ভব বর মাগি 
সে বর আমি পাব না, 
কিন্তু পায় যেন তোমার নায়িকা। 
রাখো-না কেন নরেশকে সাত বছর লন্ডনে, 
বারে বারে ফেল করুক তার পরীক্ষায়, 
আদরে থাক আপন উপাসিকামন্ডলীতে। 



ইতিমধ্যে মালতী পাশ করুক এম.এ. 
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, 
গণিতে হোক প্রথম তোমার কলমের এক আঁচড়ে। 
কিন্তু, ওই খানেই যদি থামো 
তোমার সাহিত্যসম্রাট নামে পড়বে কলংক। 
আমার দশা যাই হোক, 
খাটো কোরো না তোমার কল্পনা-- 
তুমি তো কৃপন নও বিধাতার মতো। 



মেয়েটাকে দাও পাঠিয়ে য়ুরোপে। 
সেখানে যারা জ্ঞানি, যারা বিদ্বান, যারা বীর, 
যারা কবি, যারা শিল্পী, যারা রাজা, 
দল বেঁধে আসুক ওর চার দিকে। 
জ্যোতির্বিদের মতো আবিষ্কার করুক ওকে--- 
শুধু বিদুষী ব’লে নয়, নারী ব’লে; 
ওর মধ্যে যে বিশ্ববিজয়ী জাদু আছে 
ধরা পড়ুক তার রহস্য--মূঢ়ের দেশে নয়-- 
যে দেশে আছে সমঝদার, আছে দরদি, 
আছে ইংরেজ, জর্মন, ফরাসি। 



মালতীর সম্মানের জন্য সভা ডাকা হোক-না-- 
বড় বড় নামজাদার সভা। 
মনে করা যাক সেখানে বর্ষণ হচ্ছে মুষুলধারে চাটুবাক্য, 
মাঝখান দিয়ে সে চলেছে অবহেলায় 
ঢেউয়ের উপর দিয়ে যেন পালের নৌকা। 
ওর চোখ দেখে ওরা করছে কানাকানি-- 
সবাই বলছে, ভারতবর্ষের সজল মেঘ আর উজ্জ্বল রৌদ্র 
মিলেছে ওর মোহিনী দৃষ্টিতে। 
(এইখানে জানান্তিকে বলে রাখি, 
সৃষ্টিকর্তার প্রসাদ সত্যই আছে আমার চোখে।



বলতে হল নিজের মুখেই-- 

এখনো কোনো য়ুরোপীয় রসজ্ঞের 
সাক্ষাৎ ঘটে নি কপালে।।) 
নরেশ এসে দাঁড়াক সেই কোনে, 
আর তার সেই অসামান্য মেয়ের দল।। 



আর, তার পরে? 
তারপরে আমার নটেশাকটি মুড়োল। 
স্বপ্ন আমার ফুরোল। 
হায় রে সামান্য মেয়ে, 
হায় রে বিধাতার শক্তির অপব্যয়।।



Translation

I am a girl who stays indoors. 
You wouldn't know me. 
I've read your last novel; Sarat-Sir; 
"Garland of shriveled flowers." 
Your heroine Elokeshi* started suffering 
since she reached thirty-five. 
She competed with someone 
who was twenty-five. 
I reckoned you were kind enough 
so that she won. 

Let me tell my tale. 
I am of young age. 
Someone's heart was touched 
by desires of my young age. 
Knowing this thrills filled my self. 
I forgot that I was an ordinary girl. 
There are thousands such girls 
whose youth cast spells. 

I beg you. 
Write a story of an ordinary girl. 
She has many woes. 
If in her inner self 
If some extra-ordinary feature hides. 
How may she prove? 
How many such people may come across? 
All are seduced by youth! 
No one seeks truth! 
We are bartered against their illusive ruse. 

Why this topic is raised let me explain. 
Suppose his name is Naresh. 
He said that no one like me ever captured his eyes. 
Such a lofty statement; I've no dare not to believe. 
To disbelieve this; I've courage neither.

One day he left for England. 
I received letters occasionally. 
I utter on my own; O' my god! so many girls inhabit that place. 
So much they struggle, so many are they! 
Are they all extraordinary? 
So intelligent and brilliant! 
Have they all discovered that Naresh Sen, I wonder. 
Whose talents remained suppressed in his own country. 

He wrote in his last letter which I received by mail; 
That he went to swim with Lizzie in an ocean. 
(quoted few lines from a poem of a Bengali poet 
about a mermaid who surfaced from ocean.) 
And then they sat side by side on sands. 
Before them swayed blue waves. 
Soft sunlight spanned the skies. 
Lizzie spake softly in his ears 
'You just came and will leave after few days- 
We are alike open shells of an oyster 
Let its center be filled with a drop of tear! 
Invaluable and rare.' 
What a style of narration! 
Naresh wrote this too- 
'Even if these words are contrived! 
What is the harm?' 
But its wonderful 
Are jewel studded flowers true or they aren't. 

You may well perceive 
There was a hint of comparison in his letter 
Which pierces my heart alike an unseen thorn and declares 
That I am a mere ordinary girl. 
I cannot pay in full for what is priceless. 
I am not so endowed with riches. 
Oh my, let it be so-let be it. 
May I be indebted for lifelong. 

I plead you Saratbabu do write story 
An ordinary girl's story. 
An ill-fated one who needs to distantly competes. 
With minimum of five seven extraordinary ladies. 
Rather onslaught by seven carriages. 
I know that my fate is burnt. 
I have lost. 
But the girl you shall write about; 
Make her win on my behalf. 
When reading my heart should fill with pride. 
May your pen be blessed.

Call her Malati for namesake. 
This is my name. 
No, there is no fear of being caught. 
In Bengal there are thousands of Malatis . 
They are all ordinary ladies. 
They know not French or German. 
They know only how to weep and moan. 

How you shall fetch her victory? 
Deep are your thoughts and and your pen mighty. 
May be you shall guide through paths of self sacrifice. 
Alike Shakuntala drive her to the peak of miseries. 
Have mercy on me. 
Come down at my level. 
In the dark of night; 
Retiring in bed the impossible blessings I seek; 
They shall never be mine. 
But they should be achieved by your heroine. 
You may keep Naresh in London for seven years. 
May he fail in each of his exams for years. 
May he be in adulation among his devotees. 

Meanwhile let Malati get her M.A. degree. 
From Calcutta University. 
May she be top in Mathematics by one stroke of your pen. 
But if you stop there; 
Your name as emperor of literature will suffer. 
Whatever be my destiny. 
Do not restrict your imagery. 
Alike god do not exhibit misery. 

Send the girl to Europe. 
Where those who are erudite, who are scholarly, who are valorous. 
Those who are poets, who are artists, who are emperors; 
May surround her in groups. 
Let them discover her alike astronomers. 
Not just for scholarly reasons but as a woman. 
Let her charisma be realized not in fool's nation. 
But in countries where there are learned connoisseurs. 
The English, the French, and the German. 

May a conference be organized in Malati's honor. 
An agglomerate of renowned names. 
Lets assume that n.. praises are showering on her incessantly. 
And inattentively she walks among them heedlessly. 
Alike a sailboat which sails smoothly on waves.

They all gossip about her eyes. 
They all say, India's moist clods and bright sunshine; 
In her eyes they unite and combine. 
(Here I must say to all concerned that the creator 
was certainly kind with my eyes, 
though its not yet to fortunate to be discovered by European connoisseur) 
Let Naresh appear in one corner; 
Along with his convoy of extra-ordinary ladies. 

And then? 
My imaginary herb is plucked 
My story ends in abrupt. 
Alas, the ordinary girl. 
Alas, the god's powers all ill-spent.

© Translation in English by Deepankar Choudhury